শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

মৈত্রেয়ী ঘোষ

                    




মাহেন্দ্রক্ষণ

==================

কুঁড়ি থেকে ফুটে ওঠে যে গোলাপ 

সেও জানে ঐ সন্ধিক্ষণের মাহাত্ম্য!

তাতে যতটা সুখ, যন্ত্রণাও ঠিক ততটাই

আমরা শুধু প্রস্ফুটিত গোলাপের

পাপড়ি মেলাটাই দেখি,

নাড়িছেঁড়ার কষ্ট বোঝে কেবল সে ই,

আসলে প্রতিটি জন্মেই কিছু যন্ত্রণা

বহন করতে হয়,

আর সেই সব অপ্রত্যাশিত কষ্টের সমাপ্তিতেই

পরবর্তী জন্মলগ্নের সূচনা,

যা ইঙ্গিত দেয় আরও এক যন্ত্রণাময়

মাহেন্দ্রক্ষণের।

দীপাঞ্জন মাইতি

                     





পট্টি 




ক্ষতের ওপর কোনোমতে ধূলো, মাটি, ঝরা পাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছি। চলতি কথায় যাকে পট্টি বলি আমরা। কেউ বাইরে থেকে যেন কিচ্ছু বুঝতে না পারে... এভাবেই সমস্ত বিরোধিতা, ক্ষোভ চাপা দিয়ে রাখাটাই আমাদের অভ্যেস। 


যাতে রাগ ছড়িয়ে না পড়ে তাই বসত অঞ্চল ভেঙে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন পট্টিতে। যাতে রোগের কথা ছড়িয়ে না পড়ে ক্ষতস্থল ঢেকে রাখা হয়েছে পট্টিতে। তবু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে লিঙ্গ রাজনীতি, ধর্মীয় বিভেদ, বর্ণ বৈষম্য ইত্যাদি বিভিন্ন রোগ। তবু শরীরের অনেকটা গভীরে মন বলে একটা বিষয় থাকে। থাকে বলেই ফুল ফোটে... ঋতু বদলায়... স্বাদ-গন্ধের সাথে ভালোলাগা জড়িয়ে যায়। 


রোগের সাথে নাতিদীর্ঘ সহবাসে - আমরা যত অসুখেতে সুখ খুঁজে নিতে শিখে নিই, ক্রমশ ততটাই শরীরের গভীরে শিকড় ছড়িয়ে ফেলে সমস্ত সকল অসুখগুলো। মনে বিষ ঢুকে যায়। আমরা ক্ষতের ওপর ধূলো, মাটি, পাতার পুরু আস্তরণ পেতে রাখি যাতে কেউ বাইরে থেকে কিচ্ছু বুঝতে না পারে। অধিকারবোধ এভাবেই আয়ত্ত ভুলে বৃত্ত পেরোয়, আগ্রাসী হয়ে ওঠে আরো আরো আরোর চাহিদায়। আমার মনে হয় যখন একজনের অধিকারবোধ আয়ত্ত হারালে আরেকজন অধিকার খোয়াতে বাধ্য। 


অধিকার খোয়ালে ঠিক মাথা নাড়া দিয়ে ওঠে প্রত্যয়‌। আর ক্ষতের ওপর কোনোমতে ধূলো, মাটি, ঝরা পাতা দিয়ে ঢেকে দিই আমরা। খাদ্যের অধিকারে ভিক্ষে, স্বাস্থ্যের অধিকারে সুরা, শিক্ষার অধিকারে মনোরঞ্জন, বিপ্লবের অধিকারে অনির্দিষ্টকালের বিচারাধীনতা, স্বাধীনতার অধিকারে মৃত্যু...  কেউ বাইরে থেকে যেন কিচ্ছু বুঝতে না পারে... এভাবেই সমস্ত বিরোধিতা, ক্ষোভ চাপা দিয়ে রাখাটাই আমাদের অভ্যেস। যাতে রোগের কথা ছড়িয়ে না পড়ে ক্ষত ঢেকে রাখা হয় পট্টিতে। যাতে রাগ ছড়িয়ে না পড়ে তাই বসত অঞ্চল ভেঙে ফেলা হয় বিভিন্ন পট্টিতে।

দীপা সরকার

                    



কবিতারা শূন্য



আমার আকাশে অনেক কালির ছিটা লেগেছে,

অথচ আমার কবিতা শূন্য।

বোবা আকাশ , আমার আধপোড়া মনের দিকে

তাকিয়ে তাকিয়ে ফোঁপায়।

এক থালা কালি টলমল টলমল করে ,

দোয়াত চেয়ে থাকে আমার কবিতার পাতায়,

জীবন শেষ রায় দিয়েই, ঝর্নার নিপ ভেঙে দিয়েছে।

তাই আমার কবিতার গায়ে শূন্য লিখি।

আমার আকাশে অনেক কালির ছিটা লেগেছে।

আমি আজ শুধু কবিতা আগলে রাখি ।

অরিজিৎ বাগচী

         




ফুল আর অপেক্ষা 



মুদে থাকা চোখের অপেক্ষা গুলো 

চাঁদের ফুসমন্তরে রজনীগন্ধা হয়ে ফুটেছে ।


এই যে জন্মলগ্ন , মৃত্যুলগ্ন 

এ সমস্ত কিছুই খিদের আগে বা পরে লেখা হয়


আয়নার গভীরে যে সিঁড়িঘর 

সোজা নেমে গেলে দেখা যাবে ,গঙ্গা মাটি দিয়ে সবার জন্য একটি করে উনুনু তৈরি করা আছে । 


যেখানে পুড়ে গেছে সমস্ত লাল পতকা 

লাল গোলাপ লাল শাড়ি , 


আমার অন্ধকারে খুব ভয়, আলো নিভে গেলে

বুকে একটা চাঁদ বসিয়ে যেও প্রিয়তমা ।

প্রগতি মাইতি

                    




এদিক ওদিক সেদিক



একদিকে জাতীয় গ্রন্থাগার, অন্যদিকে চিড়িয়াখানা। আমি চিড়িয়াখানায় ঢুকলাম। একদিকে প্রেসিডেন্সি, অন্যদিকে কফিহাউস। আমি কফিহাউসে ঢুকলাম । একদিকে মেডিক্যাল কলেজ, অন্যদিকে হাড়কাটা গলি। আমি গলিতেই ঢুকলাম ।একদিকে প্রাচুর্য, অন্যদিকে দারিদ্র। আমি দারিদ্রের মধ্যে ছিলাম, আছি, থাকবোও। একদিকে গল্প, অন্যদিকে কবিতা। আমি কবিতায় ডুব দিলাম। একদিকে মৃত্যু, অন্যদিকে পরমা সুন্দরী । কী ভাবছেন? আমি কোনদিকে যাবো? এবার আমি থমকে দাঁড়ালাম।

দীপশিখা চক্রবর্তী

                  




অসুস্থ শহর



বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামে,

অসুখ হয়েছে শব্দের;

প্রেমিক পাখি আর ছুঁয়ে দেখে না,

কাচের মতো চোখে চোখ রেখেও সে অস্বীকার করে সম্পর্ক! 


আজকাল এই অসুস্থ শহরে আচমকাই ঝড় ওঠে, 

যত ভয় পাই, ততই শান্ত হয়ে উঠি;


একা ভিজতে ভিজতে আঁকতে থাকি একটা স্বচ্ছ আকাশ,

সমস্ত লোভ অহংকার অগ্রাহ্য করে ডুবে যাই অজানা এক অভিধানে;


আমাকে তোমরা কবি বলো না,

আমি কবিত্ব চাইনি কোনোদিন, 


ঠিক যতটা একা হলে শূন্যতা জ্বলে ওঠে,

এলোমেলো হেঁটে যাওয়া যায় নিবিড় রোদ্দুরের পথে,

জীবন লিখি সেখানে!


আমার বিলাসঘরে অপেক্ষা নেই আর,

ফিরে আসুক শব্দেরা,


কথা দাও,

শুধু তোমরা আর কবি বলে ডাকবে না আমাকে,

কখনোই না!

মধুমিতা ঘোষ

              




অণুগল্প 

---------

মধুমিতা ঘোষ


বেঁচে উঠি প্রত্যহ অবরা পৃথিবী যাপনে ।

একের পাশে কাঙ্খিত শুন্য  স্থাপনে ।

জীবন হোক বা মরণ -

বৃত্ত দিয়েই তো দিকেরা ঘেরা ।

রাগ -অনুরাগের কথারা নির্লিপ্ততার আগুনে পুড়ে-

সুখ-দুঃখের চক্রে মনের ভিতর ইচ্ছে দিয়ে বেঁড়া বাঁধে রোজ ।

গভীর আশ্লেষে সঠিক সীমাও টেনে নেয় দিনলিপির  নির্মাণে । 

হিসেবের মুখর গহ্বরে শক্ত মাটি চাপা দিয়ে -

প্রয়োজনে বিয়োগকে অশেষ রূপে আপন করে নিয়েই,

যোগের অঙ্গীকারে অংশুপথে এগিয়ে চলি । 


মগ্ন সুখের কোনো বহুবচন হয় না ।

প্রশ্নের মিথ্যে প্রশ্নপত্রে কখনো উত্তর ও লেখা যায় না । 

শুন্য দিয়ে যদি সাদাকালো রাতের আলোছায়াকে  ভাগ করা যায় -

ভগ্নাংশে থেকে যাবে সোঁদা গন্ধের অনাবিল মায়া আর অসম্পূর্ণতার কান্না । 


শশ্মানের দর্পনে রাখা মৃত্যুছায়ার রেশকে মরানদীর দাগে বিহগী উপমহাদেশে পাঠিয়ে-

সময়ের আগ্রহেই আত্মলাঞ্ছনার স্মৃতিকথা থেকে সরে  গিয়ে -

শুন্য থেকেই জীবনের মানেটা খুঁজতে শুরু করেছি মনশিকড়ের ঠিকানায় ।।




অনির্বাণ দাশ

            




বুদ্ধদেব
------------- 
বন পথে মাধুকরী কোয়েলের কাছে
বাঁকানো পাইপ আছে ধূম্র ওষ্ঠাধর
কাঁধে ঝোলে সেল্ফলোডিং ও বাইনোকুলার 
গান গুঞ্জরণ মৃদু প্রাণে তাঁর বাজে। 

একা চলে যান তিনি ডহর ডুলুং
সুজাতা পায়েসে আনে রমণীর মন
মোরগের রোস্ট ঘ্রাণে থামে না চলন।। 



আগুন
------------

ঘোর অন্ধকার থেকে আগুন উৎসব 
রোশনারা।। 
অমানিশা কোথায় মিলালো
গুহাগুলো ক্রমে ক্রমে হাইরাইজ হলো
আরো আলো।
আরো দূরে ক্ষীণ শিবারব।।

কাছে এসে ঘন হলে তবে তো উত্তাপ
অগ্নিসাক্ষী বিবাহও পুড়ে যায় দেখি
কখন আগুন হবো চিতাকাঠে শব... 


পরিণতি 
-------------

গাছ কাটার রক্তে ভেসে গেছে বীথি
ধোঁয়া ছেড়ে উনুনেরা আনপথে
বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে রাধা নয় 
                              জগঝম্প ডিজে। 

পড়ে থাকা শিউলি তুলে 
রেখেছিলাম লেখার খাতার উপরে

বেলাশেষে 
ফুল নয় লেখাগুলো শুকিয়ে ঝরেছে
'ভা' নেই 'ল' নেই শুধু 'বাসা' বেঁধে আছে।।
---------------------------------------------------------
---------------------------------------------------------





সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

       


তিন ধামা চাল


১.
আলস্য,
      প্রথম প্রেমের মত পুরুষাঙ্গে 
                          লেগে আছে...অনির্দিষ্টকাল।


২.
কুন্তিবিহনে পড়ে আছে
তিন চারটে ঠোঁট, সিগারেট, ছাইদানি আর?

অপার্থিব লিবিডোর টাটকা বাতিল ন্যাড়া লাশ।


৩.
ময়লাটে ঘুম পরপর এত জমে গেছে,

স্বপ্নেরা বসে থাকে--উবু, হাতজোড়...

বিচার পায় না।


৪.
মেনে নেওয়া সবটুকু আকর্ষণীয় কারাগার
বরং এখন কিছুদিন,

ধন্যবাদের কাছে কয়েদি সন্ধান করা যাক...


৫.
লগ্নভ্রষ্ট পুরুষেরা ফিরে আসছে মন্ডপে

শীৎকারের ডেসিবেলে
বেকারত্ব ঢেকে নেবে বলে।

৬.
পাখির কাছে মাতৃত্ব 
বন্ধক রেখে
স্বনির্ভর হয়েছে চোরাবালি।

৭.
সম্ভাবনা অবৈতনিক--

ঊরুলক্ষ্মী পূর্বাপর অশ্লীলতাবাসিনী রইলেন
সায়ংকালীন অধিবেশনে...

৮.
অরূপচর্চায় তুমি নিরুচ্চার ঈশ্বরীর মত
নির্বিশেষে প্রত্যেক পাতের পাশে বসে

ভাজা মাছ উল্টেপাল্টে দাও...

৯.
কাত হয়ে শুয়ে পড়া
অতএব চিহ্নেরা অর্ধেক চাঁদ ছুঁয়ে বলে,
"আরশিও সুস্থতা পাবে"।

১০.
ধরা তো পড়তেই চাই
কিন্তু বারবার
টোপের বদলে তোমায় গিলে বসে থাকি।

অরিত্র চ্যাটার্জি

                 



আরেকটি সলিলোকি


বছর গড়িয়ে এলে তোমাকেই ইতস্তত চিঠি লিখব ভাবি

কি যেন ঠিকানা ছিল, এখন তো গুরগাঁও তে নাকি  

যাই বল উঁচু বেশ সাউথের এস্ক্যালেটরগুলো, তখন তো নতুন কিনা 

মেট্রো থেকে নেমে মিনিট দশেক, একটা পোল পেরোতে হত,

আমি অবশ্য সাঁকো বলতাম, এখন আর বিশেষ বলি না, 

রিকশা ভাড়া পনেরো টাকা, ঈষৎ দরদাম, দুজনে গেলে কুড়ি,

সে ও অবশ্য বছর সাতেক, না না ও রাস্তা নেবেন না, পরের গলি নিন,

না হয় পাঁচ টাকা বেশি দেব, আহা ও দিকে তো ছোট মামার দোকান,

হরিমতী হার্ডওয়্যার, ছোট্‌ ঠাকুমার নাম, প্রাঃ লিঃ, এখানে সুলভ মুল্যে…

ইত্যাদি যেমন হয়, অল্প ঝাপসা এখন, আমাকে আবার সাড়ে সাতটার মধ্যে

আসলে রাত হলে সদনে এত ভিড়, বলছি, একটা সিগারেট…, না না চল

এই ফুচকাওয়ালা, দশ টাকায় ক’টা, হুঁ হুঁ বাওয়া, ঝাল বেশি মানে বেশি, 

বিহারে কোথায় তোমার গাঁও আমাকে বল, আমরা দুজনে কিন্তু এক সাইডে,

না না ওভাবে আলাদা খাবো না, জলদি ভাই, ফাউতে লাল চাটনি দেবে,

ট্রেন চলে এল, তাড়া কি, তোমার তো স্মার্ট কার্ড ছিল, এভাবে মিনিট দুয়েক

বাড়তি বরাদ্দ যেটুকু, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাহলে নেক্সট বুধবার সেকেন্ডহাফে, 

ওই চাইনিজ রেস্তোরাঁয় তো, ওয়েটারের বাঁ হাঁতে আঁকা ড্রাগনের উল্কি,

ওখানেই দেখা হবে, হয়েছিল কি, গ্রেভি নুডলস, এখন খাও না বোধ হয়

কি জানি, ছবি দেখে মনে হল, আসলে অদরকারি ইনফরমেশন, কি বললে 

আমার ব্যাপারে, না না, মাইন্ড করবো কেন, আমি তো এখানেই, আপাতত

এই যেমন দেখছ, বাড়িতে সব ভালো তো, ও প্রশ্ন আমায় করে লাভ নেই  

সাউথে তো আজকাল খুব ভিড় শুনি, আসলে আমিও বহুদিন, অহেতুক যাপন  

এবং আদতেই দিন যায়, যায় রে, তাছাড়া সত্যি বলতে কি যা গেছে তা যাক …




দোতলার গান

হাইওয়ের ওপরে একটা খুব পুরনোমতন গাড়ি 

আবারও থেমে যাচ্ছে কোনো অপ্রত্যাশিত বাঁকের সামনে

আর প্রাচীন উপকথা থেকে উঠে আসা ঘোড়সওয়ারেরা

ক্রমশ ঢুকে পড়ছে এইসময়ের একটা সরাইখানায়

অবশিষ্ট মদ হাতে যেখানে কয়েকজন ক্লান্ত ভাঁড়

মনোরঞ্জন করছে মালকিনের, অদূরেই জনৈক মাতাল

ধরে নেওয়া যাক সে কানে খাটো, এসব দেখেনি

বরং ভেবেছে একমনে, সোডার মধ্যে এত বেশি মৃত্যুর গন্ধ

কেন সে পাচ্ছে আজকাল, ঘোড়সওয়ারেরা ফিরে যায়

অন্যমনস্ক জেনারেল, গ্লাস শেষ না করেই উঠে পড়েন

চলুন কতকটা তাঁর পিছু পিছু যাওয়া যাক, রাস্তায় আবার

রাস্তার ওপাশে রাস্তা, অবিন্যস্ত ফ্ল্যাটবাড়ি, আমরা পেরোই

নির্জন পার্ক, তার এই দৃশ্যের ভেতর আর কেউ নেই

শুধু বিকেলভঙ্গিমার ঠিক মাঝখানে একটি ক্লান্ত তরুণী 

নিদ্রিত প্যারামবুলেটরের সাথে গল্প করছে একাই

জানলার ওপাশ থেকে আমরা খানিক তফাত রেখে দেখছি

অনতিদূরেই কেউ একটা কাঁদছে, তার শব্দ ছাপিয়ে দোতলার

ওই অস্পষ্ট গান আজ আবার আমাদের কানে ভেসে আসছে…




পরবর্তী স্বপ্নে দ্রষ্টব্য

খুব পুরনো একটা তারার গা বেয়ে বিকেল গড়িয়ে পড়ছে আর জানলায় সেটা ঝুঁকে পড়ে দেখছে ট্যাক্সি-ফেরতা মেয়ে, এই ফ্রেমটা তোমার ভালো লাগছে, ভালো লাগছে আরেকটা ক্ষণস্থায়ী দৃশ্য হারিয়ে ফেলার দুঃখ, নিয়ন শহর জুড়ে পাতা ক্যানভাস বরাবর একটা একটা করে রঙ নিপুণ হাতে সরিয়ে ফেলছে কেউ, ওই হাত ও আঙ্গুল, তার নোনতা রক্তের স্বাদ তুমি খুব বেশি করে জানো, আয়নার ওপার থেকে দেখেছো অনেক আর বারে বারে ছুটে গেছো প্রবল আশ্লেষে তার বিপরীতে, সরণবিহীন ওই রাস্তা বরাবর আমাদের চেনা কোনো সাইনবোর্ড নেই, অথচ পুরনো অভ্যাসের বশে অজানা হরফগুলো চিনে নিতে তুমি ফিরে যাচ্ছ, ফিরে যাচ্ছ ওই মেয়েটার ঠোঁটে, রক্তের ভেতর দিয়ে ঘোড়া ছুটে যাচ্ছে আমাদের আর শাদা পাতাগুলো রিওয়াইন্ড করছে দ্রুত, আরও দ্রুত ক্যামেরার পেছনে নেওয়া এই ক্লোজ-আপ বরাবর দেখো তোমার আমার স্বপ্নটা ক্রমশ কেমন সিনেমা হয়ে যাচ্ছে …