রবিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২২

মৌসুমী ঘোষ

                     




তন্বী লিখল, ‘তুই কি করিস অহনা?’ অহনা জানাল, ‘বিশ্বভারতীতে পড়াই আর অর্মত্য সেনের প্রতীচীতে যুক্ত আছি। কাল জেলা সংস্করণে প্রতীচীকে নিয়ে নিউজ আছে, তারসঙ্গে আমার ছবি আছে।’  


অনেকেই দারুণ লিখে বা ইমোজি দিয়ে অহনাকে অভিনন্দন জানাল। সর্বাণী লিখল, ‘তুই বিয়ে করিস নি, অহনা?’ অহনা জানাল, ‘নারে, সময় পাইনি, এত ব্যস্ত।' হাসির ইমোজি দিয়ে লিখল, 'আমার মরার পর্যন্ত সময় নেই।’ তন্বী লাভ সাইন দিয়ে লিখল, ‘ইস কী লাকি তুই।’ বল্লরী লিখল, ‘আহারে, তন্বী এখন বরকে তাড়িয়ে পস্তাচ্ছে।’ সবাই হাসির ইমোজি দিচ্ছিল।


সুনীলা লিখল, ‘সামনের রবিবার সন্ধ্যে ছ’টায় আমরা সবাই গুগুল মিটে আড্ডা দেব ভার্চুয়ালি।’ সবাই আনন্দের ইমোজি দিতে শুরু করল।

তন্বী অষ্টভূজের সবার মুখ মনে করতে করতে লিখল, ‘সাথীর খবর কেউ জানিস?’ সুনীলা বলল, ‘ইস্যু হতে গিয়ে দশ বছর আগে মারা গেছে।‘ তন্বী আবার লিখল, ‘আর স্নিগ্ধা?’ ‘ও আত্মহত্যা করেছিল বিয়ের পর পরই।’  সুনীলা ভয়েস মেসেজ করে জানাল।


তন্বী লিখল, ‘তাহলে এখন আমরা ষড়ভূজ।’ অহনা লিখল, ‘আসলে এই অষ্টভূজটার একটা গোপন দরজা ছিল তা আমরা বুঝতাম নারে তখন। আগে জানলে কিছুতেই কাউকে সেই দরজা খুলতে দিতাম না। আরো বেঁধে বেঁধে থাকতাম।’ 


তন্বীর দু’চোখ কখন জলে ভরে গেছে সেটা নিজেই বুঝতে পারেনি। পরেরদিন বাইপাশের ধারে টাটা ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারে তার নিজের কেমো দেবার প্রথম ডেট। প্রীতম এসে নিয়ে যাবে। সেটা কি এবার সে গ্রুপে লিখে দেবে তবে! নাকি অহনাকে পার্সোনালি জানাবে! অহনা গোপন দরজাটা খুঁজে পেলেও পেতে পারে। পারলে ওই পারবে ওটা চেপ্পে বন্ধ করে রাখতে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন