মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

সম্পাদকীয়


চারিদিকে শুধু শীত শীত ভাব ৷ কুয়াশা ঘেরা সকালে এক কাপ চায়ে চুমুক দিতে দিতে মনে পড়ে তোমার কথা ।শীতের পরশ প্রথম যখন গায়ে মাখি তখন মনে পড়ে তোমার কথা ৷জানলায় গাছের শিশিরের দিকে যখন তাকাই তখন মনে পড়ে  তোমার চুলের জলের কথা ৷কমলালেবুর খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে মনে পড়ে তোমার গায়ের গন্ধের কথা ।ঠোঁটের কোণে লিপবাম লাগাতে লাগাতে মনে পড়ে তোমার প্রথম চুম্বনের কথা ...

ইদানিং সবকিছুতেই শুধু তোমাকে মনে পড়ে ...

হে পরম  পৌষ
আলিঙ্গন করো  সারা শরীর
মেতে উঠুক পরম উষ্ণতা

ধুলো মেখে থাকে অতৃপ্ত চাহিদা
আরো আরো কাছে এসো
জড়িয়ে ধরো হাতখানি
চোখে চোখ কথা হোক

পশম ছড়িয়ে দিক উর্বর স্তনে
আজ না হয় এটুকুই ...


  • না ! সৃজনকে ভুললে আপনাদের  কোন  মতেই চলবে না ৷দেখতে দেখতে "সৃজন ". চার বছর অতিক্রান্ত হতে চলল ৷আপনাদের ভালবাসা, আপনাদের চাহিদায় সৃজন আজ এতটা পথ হেঁটে এসেছে ৷ আরো অনেকটা পথ হাঁটা বাকি ।তার জন্য চাই আপনাদের আরো আরো বেশি ভালোবাসা আরো বেশি দায়বদ্ধতা ৷" সৃজন "  আপনাদের কাছের  হয়ে উঠুক ৷ইংরেজি নতুন বর্ষ আপনাদের ভালোবাসা ছড়িয়ে দিক এই কামনা করি ৷



পারমিতা  চক্রবর্ত্তী
সম্পাদক

আমাদের লেখা পাঠান এই আইডিতে srijanblog10@gmail.com 

স্বপন রায়




আব্বাস  কিয়ারোস্তামির কবিতা   
.....
আব্বাস কিয়ারোস্তামি  স্বনামধন্য চিত্র পরিচালক(১৯৪০-২০১৬)। তবে তিনি কবিতাও লিখেছেন। তাঁর কবিতাগুলি ছোট, অনেকটা ‘হাইকু’ যেন। যেন হাফেজই লিখছেন সমস্ত সাঙ্গীতিক  মূর্ছনা বাদ দিয়ে, আবেগ বিসর্জন দিয়ে। পড়া যাক কিয়ারোস্তামির তেমনই কিছু কবিতার অনুবাদ। ফার্সি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ আরিয়া ফানি। আমি বাংলায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
.....
১.
একটা লাল বিন্দুর লাইন শাদা বরফের ওপরে
আহত খেলা
খুঁড়িয়ে চলে যাচ্ছে
২.
পূর্ণিমা
জলে প্রতিফলিত
জল
একটি পাত্রে রাখা
এবং তৃষ্ণার্ত মানুষটি
গভীর ঘুমে
৩.
চাঁদের আলো
চকচক করছে সরু রাস্তাটায়
ওটা আমার রাস্তা নয়
৪.
শাদা অশ্বশাবক
হাঁটু অব্দি লাল
পপির মাঠে
খেলাধুলোর পরে
৫.
সকাল
শাদা
সন্ধ্যা
আঁধারকালো
একফালি দুঃখ
মাঝখানে
ধূসর
৬.
নেকড়ে
শুয়ে আছে
অপেক্ষায়
৭.
ধোঁয়ার গন্ধ
জ্বলন্ত অনুতাপের গন্ধ
বাচ্চার কান্নার শব্দ
রোদঝলসানো ইঁটের
কুঁড়েঘর


যুগান্তর মিত্র




*ঈশ্বর বিষয়ক সনেট*




সপ্তাশ্ব নামের এক ঈশ্বর আমার বাড়ি থাকে।
তার কাছে জমা রাখি নিজস্ব স্বপ্ন আর ভ্রম।
সকাল সন্ধ্যায় দেখি নম্র হাওয়ার মতো তাকে,
ঘিরে রাখে চারিদিকে তথাগত আলোর আশ্রম।
আমি তাকে পুত্র বলি, সে আমাকে পিতা বলে ডাকে।
কখনো বিপ্রতীপে উল্টে যায় সে ডাক মোক্ষম।
বিশ্বচরাচর জুড়ে আলোর গুঁড়োর ফাঁকে ফাঁকে,
ঝুলে থাকে অন্ধকার, গলে পড়ে ভালোবাসা-মোম।

কখনো সে পিতা হয়, আমাকেই পুত্রসম বোধে
দুহাতে আগলে রাখে, সে যেন একাই সব্যসাচী ;
ঘিরে রাখে রাত্রিদিন, নিরন্তর আপদে বিপদে।
পিতাপুত্র পুত্রপিতা নির্ভার হয়ে আমরা বাঁচি।
পুত্র আর পিতা যদি এক ব্যক্তি, এক আত্মগত,

জগতে আনন্দযজ্ঞে গ্রহতারা জ্বলে শত শত।

তুষ্টি ভট্টাচার্য


শিরিষের স্মৃতি

বরফে পা গেঁথে গেলে লতাটি টান দেয়
চেয়ারের পায়া কেঁপে উঠে ভাবে-
এখনও অনেকগুলো দিন এই সাদা প্রান্তরে
শিরিষের স্মৃতি নিয়ে কেটে যাবে

কে কাকে বহন করছে, এই দ্বিধার সামনে
নতজানু হয়েছে শীতরাত
নিজেকে বিছিয়ে দিয়েছে আজানু সম্ভবে

আজ যদি এইখানে সমস্ত বরফ গলে যায়
চেয়ারের দুঃখ থেকে অন্তত কিছু ভার কমে যেত
লতার কোমলে সবুজের সমারোহ দেখে
হেসে উঠত না কি তারা?

অসম্ভব দৃশ্য থেকে সরে এসে
এইবার তবে কিছু বসা যাক।  
 #
বসে থাকার কালে সারবত্তা বলে কিছু নেই
দুদিকে অলস চোখ বুলিয়ে শুধু দেখে নেওয়া
শুধু সময়ের বিস্তৃত নিভৃত সংলাপ

লতাটিও প্রায় বসে আছে
সিরাজের কথা মনে পড়ে তার
খানিক হুঁকোর ধোঁয়া এলো কোথা থেকে  
কুণ্ডুলি পাকিয়ে তারা এই বুঝি মেঘ হবে, ভাণ করে

বরফের স্তরে স্তরে লুকনো আগুন থেকে
আজও ধোঁয়া ওঠে
ধোঁয়ার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ ক’র না!

 ছবি - আশীষ পাইন

কৌশিক চক্রবর্ত্তী


মল্লভূমের মাটি
_____________


মল্লভূম। বাংলার উর্বর অঞ্চলের রাজারাজড়াদের নাগালের বাইরে সে এক বিশাল অরন্য অধ্যুষিত স্বাধীন রাজ্য। রাজা আছে, সিপাই আছে, আছে অস্ত্র-শস্ত্র, পাইক, বরকন্দাজ। এমনকি বিখ্যাত কারিগর জগন্নাথ কর্মকারের নিজে হাতে তৈরি কামান। মুর্শিদাবাদের নবাবী নজরের বাইরে সে এক হিন্দুরাজাদের বিচরণভূমি। ভৌগলিক সীমানায় নবাবের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলেও বিস্তীর্ণ জঙ্গলের কারণে নবাব কখনোই ফিরে তাকাননি এই অঞ্চলের ত্রিসীমানায়। এমনকি নিয়মিত নবাবকে কর দিলেও মুর্শিদাবাদের দরবারে কখনো হাজিরা দিতে হয়নি মল্লভূমের রাজাদের। যদিও একজন প্রতিনিধি রাখা থাকতো নবাবের দরবারে। 
যাই হোক, ফেরা যাক ঘটনায়, ৬৯৪ খ্রীস্টাব্দে রাজা আদিমল্লের নিজেহাতে প্রতিষ্ঠিত রাজপাট। সেযুগের দুর্ধর্ষ মল্লযোদ্ধা হিসাবে তাঁর দিগ্বিদিক খ্যাতির কারণে মল্লরাজ নামেই লোকে বেশি চিনতে শুরু করে তাঁকে। আর এই মল্লরাজদের হাতেই সযত্নে গড়ে উঠতে থাকে মল্লভূম, আজকের বিষ্ণুপুর। সমগ্র রাজত্বকালের সবচেয়ে বাড়বাড়ন্ত দেখা যায় ৪৯ তম রাজা হাম্বীর মল্ল দেবের সময়ে। রাজা হাম্বীর মল্ল ছিলেন পরম বৈষ্ণব। সে কথা না হয় পরে কখনো বলা যাবে। শহরের সমস্ত মন্দির ও স্থাপত্যই প্রায় এই হাম্বীর মল্লের সময় ও তার পরে পরে তৈরি। সম্রাট আকবরের সমসাময়িক রাজা হাম্বীর মল্লের শক্তিশালী রাজ্যপাটের কারণে বীর হাম্বীর নামেই লোকে ডাকতো তাঁকে। বাদশা আকবরের সাথে ছিল তাঁর সুসম্পর্ক। বর্তমানে ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইট বিষ্ণুপুর রাসমঞ্চ তাঁর হাতেই নির্মিত। তবে রাজা বীর সিংহ, দুর্জন সিংহ (মদনমোহন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা), চৈতন্য সিংহ, রঘুনাথ সিংহের হাতেও তৈরি হয় বিভিন্ন চোখ ধাঁধানো পোড়ামাটির স্থাপত্য ও মন্দির৷ তৎকালীন আশপাশের ঘন জঙ্গল ও দুর্গম রাস্তা পেরিয়ে বহুদূর থেকে পাথর আমদানি ছিল নিতান্তই খরচাসাপেক্ষ। তাই স্থানীয় লালমাটিতে কারুকাজ করে তা পুড়িয়ে মুর্তি নির্মাণ। এটিই হল টেরাকোটা। শ্যামরায় মন্দির, মদনমোহন মন্দির, কালাচাঁদ মন্দির, জোড়বাংলো, লালজি মন্দির আরো আনাচেকানাচে অজস্র টেরাকোটার স্থাপত্য এর মধ্যে অন্যতম। মন্দিরের গায়ে সুক্ষ্ম রামায়ন মহাভারত এবং মধ্যযুগীয় শিল্পকলা। তাকিয়ে থাকতে হয় অবাক বিস্ময়ে। কোনো যান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়াই শুধুমাত্র হাতের কাজে দেয়ালগাত্রে পাতলা বাংলা ইটের ভিতের ওপর পোড়ামাটির কাজ। প্রতিটা ইটের ফাঁকে যেন লুকিয়ে আছে কত শত বীরত্ব আর শৌর্যের আখ্যান। কান পাতলে আজও অবিকল শোনা যায় কারিগরদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর শৈল্পিক আঙুলে নকসা বোনার শব্দ। 
রাজধানী প্রদ্যুম্নপুর থেকে বিষ্ণুপুরে স্থাপিত হবার পর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। তখন আটচল্লিশতম মল্লরাজ ধাড়ীমল্ল বয়সের ভারে ন্যুব্জ। যুবরাজ হাম্বীর শৌর্য বীর্যে বেশ উজ্জ্বল। আশেপাশের রাজ্যেও লোকের মুখে মুখে ফেরে তাঁর বীরত্বের কথা। রাজা হবার পর তাঁর বিচক্ষণ রাজনৈতিক বুদ্ধি আর অসীম বীরত্বের গল্প আজও বিষ্ণুপুরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়। তবে সে অনেক পরের কথা। ধীরে ধীরে আমরা আলোচনা করব তাঁর সেইসব অমর কাহিনী। এখন আবার ফিরে আসি সেই যুবরাজ হাম্বীরের কথায়। হঠাৎ মোঘলদের চিরশত্রু উড়িষ্যার পাঠান নবাব সুলেমান কররাণির পুত্র দাউদ খাঁ বিষ্ণুপুর আক্রমণ করে বসেন। যুবরাজ হাম্বীর তাঁর দক্ষ সেনাদল নিয়ে এগিয়ে যান শত্রুদের আটকাতে। প্রথমে দায়ুদ খাঁয়ের নেতৃত্বে লক্ষাধিক সৈন্য দেখে একটু পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন বীর যুবরাজ। কিন্তু তারপর নিজেকে গুছিয়ে কৌশলে আছড়ে পড়েন শত্রুদের ওপর এবং দুইপক্ষের প্রচুর প্রাণের বিনিময়ে তিনি পাঠান দায়ুদ খাঁকে পরাস্ত করেন। সেইদিন যুদ্ধের মাঠে জমে যায় মৃতদেহের স্তুপ আর কথিত আছে যুবরাজ হাম্বীর শত্রুদের মুণ্ড থেকে মালা বানিয়ে অর্পণ করেন কূলদেবী মৃন্ময়ী মাকে। শত্রুদমনের সেই জায়গা আজও বিষ্ণুপুরে মুণ্ডমালার ঘাট নামে বহু পরিচিত। এতো গেলো যুবরাজ তরুণ হাম্বীরের কথা। আর রাজা ধাড়ীমল্লের মৃত্যুর পর যখন তিনি সিংহাসনে বসেন তখন তাঁর বীরত্বের কাহিনী যেন শেষই হয় না। তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বুদ্ধি আর দূরদর্শীতায় তিনি মোঘল - পাঠান যুদ্ধে মোঘল পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। সম্রাট আকবরের সাথে সুসম্পর্ক তাঁকে অনেকটা শক্তিশালী করেছিল সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহও নেই। সম্রাট আকবর শাসনের সুবিধের কথা ভেবে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে মোট ১৬ টি জায়গীরে ভাগ করেন। তার মধ্যে বাংলার দায়িত্ব পান স্ময়ং রাজপুত সেনাপতি মানসিংহ। একবার সন্ধি করার ফাঁদে ফেলে তৎকালীন পাঠান নবাব কতলু খাঁ মানসিংহের পুত্র জগৎসিংহকে তুলে নিয়ে যান উড়িষ্যায়। স্বাভাবিক ভাবেই বিচলিত হয়ে পড়েন রাজা মানসিংহ। বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে বর্তমান আরামবাগের কাছে ছাউনি ফেলেন তিনি। সেই সুযোগে নিজের রাজ্যের মধ্যে মোঘল পাঠান দ্বন্ধে তিনি সেনাসমেত সরাসরি সাহায্য করেন মানসিংহকে এবং প্রায় একক বিক্রমে যুদ্ধ করে ছাড়িয়ে আনেন জগৎসিংহকে এবং বন্দী অবস্থায় হত্যা করে সমাধিস্থ করেন কতলু খাঁকে। সেই স্থানটিই আজ কতলু খাঁয়ের নাম অনুযায়ী বর্তমান বাঁকুড়ায় কোতুলপুর নামে খ্যাত। যুদ্ধের পরে স্বাভাবিক ভাবেই মোঘলদের সুনজরে পড়ে যায় সেযুগের বন-বিষ্ণুপুর (বিষ্ণুপুরের তৎকালীন নাম)। এমনকি সেদিন বাদশার দরবারেও হাম্বীরের হয়ে বহু প্রশংসা করেছিলেন রাজা মানসিংহ। কৃতজ্ঞতাবশত বিষ্ণুপুরের ওপর থেকে করের বোঝা পর্যন্ত তুলে নিয়েছিলেন বাদশা আকবর। প্রায় ৫০০ বছর আগেও মল্লভূমের মত জঙ্গল অঞ্চলে তাঁর দক্ষ শাসনব্যবস্থার সুবিধার জন্য এক একটি দৃঢ় পদক্ষেপ আজকের মানুষকেও অবাক করে। দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধার জন্য তিনি সমগ্র মল্লভূম জুড়েই উঁচু উঁচু স্তম্ভ তৈরি করেছিলেন। শত্রু আক্রমণের খবর এতে তাঁর কাছে অনেক আগেই খুব সহজে পৌঁছে যেত। এই স্তম্ভগুলোকে তখন বলা হত 'মাচান'। আজও বাঁকুড়ায় কোনো কোনো জায়গায় এইসব স্তম্ভের ভাঙা অংশ দেখা যায়। বাঁকুড়া স্টেশনের কাছে 'মাচানতলা' অঞ্চলের নামকরণের কারণও এটিই। যদিও নাম থাকলেও এই অঞ্চলের মাচানটি বহুকাল আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। 
এ এক সফল রাজার কাহিনী। এক দোর্দন্ডপ্রতাপ অথচ প্রজাবৎসল শাসকের গল্প। তাঁর গল্প যত বলা যায় ততই কম হয়ে যায়। অথচ এই বীর রাজাকে আজও কতজন বাঙালি ঠিকমতো চিনে উঠতে পেরেছেন! ঘুরতে ঘুরতেও দেখেছি বিষ্ণুপুরের বেশিরভাগ ভ্রমণপ্রিয় বাঙালিই মন্দির দেখেন, বালুচরি কেনেন। কিন্তু বাংলার গর্ব রাজা বীর হাম্বীরের নাম পর্যন্ত জানেননা অনেকেই।
বিষ্ণুপুর বাংলার এমন এক অংশ যার কোনো অঞ্চলই মুসলিম শাসনে কোনোভাবেই প্রভাবিত হয়নি। অরণ্য ও মালভূমি আবৃত মল্লভূমকে কোনো সুবেদারই কখনো পুরোপুরি হস্তগত করতে পারেনি। তবে মুর্শিদাবাদকে মল্লরাজারা রাজস্ব দিয়ে দিত বলেই জানা যায়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ শাসনে এঁরা ছিলেন স্বাধীন। চিরাচরিত হিন্দু প্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে বাংলার মল্লভূমি, বীরভূম ও বর্ধমান বেশ উল্লেখ্য। যদিও বর্ধমান রাজবংশের শক্তি বাড়তে শুরু করলে বিষ্ণুপুরের রাজাদের নিয়ন্ত্রণ কমতে শুরু করে। বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচাঁদ বিষ্ণুপুর আক্রমণ করে অনেকটা মল্ল প্রশাসিত অঞ্চল নিজের জমিদারির আওতায় আনেন। পরের দিকে বাংলায় মুহুর্মুহু বর্গী আক্রমণের ফলে মল্ল রাজারা বড় বেকায়দায় পড়ে যান ও বিষ্ণুপুর মল্লরাজত্বের পতন শুরু হয়। যদিও সেসব অনেক পরের কথা। ততদিনে এই অঞ্চলের রাজাদের বহু কীর্তি বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। ৬৯৪ খীষ্টাব্দে যখন আদি মল্লরাজের হাতে প্রতিষ্ঠা পায় এই রাজবংশের তখন এদেশের মানুষ মুসলমান সম্প্রদায়ের নামও শোনেনি। এর অনেককাল পরে (প্রায় ৫০০ বছর পরে) বকতিয়ার খিলজী বাংলার হিন্দু শাসকদের থেকে বাংলা হস্তগত করেন। তবে মল্ল সাম্রাজ্যের কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যায় রাজা হাম্বীর মল্ল দেবের কথা ছাড়া। তাঁর সুশাসন ও প্রজাবৎসল রাজত্বের সময়কাল আজও বিষ্ণুপুরের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা আছে। বাংলার বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। এই বারো ভুঁইয়াদের ক্ষমতার সেযুগে সর্বজনবিদিত। বলে রাখি বাংলার অসীম ক্ষমতাধর এই শাসকদের ভাবগতিক মুঘল শাসকদেরও কখনোই শান্তি দেয়নি। সম্রাট শাহজাহানের আগে কোনো বাদশাই বাংলা থেকে সম্পূর্ণ রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হন নি শুধুমাত্র এঁদের কারণে। এমনকি প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর বিব্রত হয়ে বাবরনামায় লিখছেন "...এই বাঙালিদের আমি দেখে নেব"। রাজা বীর হাম্বীরও সেই তালিকায় অন্যতম এক শাসক। তাঁর বীরত্ব ও শৌর্য বোঝাতে হয়ত আর কোনো উপমারই প্রয়োজন পড়বে না। শৈব বংশজাত হয়েও রাজার বৈষ্ণব জীবনযাপনের কথা না বললেই নয়। এই বিষয়ে একটি কাহিনী ঘোরে লোকের মুখে মুখে। চৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদ শ্রীনিবাস আচার্য ও অন্যান্য ভক্তরা বৃন্দাবন থেকে ফিরছিলেন বাংলায়। তখন পথে বিষ্ণুপুরের সৈন্যরা তাঁদের লুঠ করেন এবং বন্দী করেন। পরে আচার্যের ভাগবত পাঠ শুনে মল্লরাজ হাম্বীর বৈষ্ণব মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে পড়েন ও দীক্ষা গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম মল্লরাজ যাঁর পর থেকে বিষ্ণুপুরে গৌড়ীয় বৈষ্ণবমতের ব্যাপক প্রচার ঘটে। এরপর বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত রাসমঞ্চ তাঁর হাতেই তৈরি হয়। রোদে পোড়ানো ইটের ওপর টেরাকোটার কারুকাজ করা এই মন্দিরটি আজ ইউনেস্কো সুরক্ষাবলয়ের অন্তর্ভুক্ত একটি জাতীয় স্থাপত্য। 
বলা হয় দীক্ষা গ্রহণের পর রাজা হাম্বীর বৃন্দাবন যাওয়া মনস্থির করেন। এরপর বৃন্দাবন থেকে একটি যুগলমূর্তিও নিয়ে আসেন। ভাবা হয়, আজও বিষ্ণুপুর মদনমোহন মন্দিরে সেই মূর্তিই পূজিত হয়ে আসছে। মতান্তরে বলা হয় প্রাচীন  মূর্তিটি বর্তমানে কলকাতায় আছে। যদিও বিশ্ববন্দিত টেরাকোটা শিল্পের এই মন্দিরটি রাজা বীর হাম্বীরের মৃত্যুর প্রায় ৭৪ বছর পরে মল্লরাজ দুর্জন সিংহের হাতে নির্মিত হয়। পরে
রাজা বীর হাম্বীরের মধ্যে আমরা এক উচ্চমানের বৈষ্ণব পদকর্তাকেও দেখতে পাই। গৌরপ্রেমে মাতোয়ারা কবি বীর হাম্বীরের লিখিত পদ আজও গবেষকদের কাছে এক সম্পদ।
আজ তাঁর একটি বৈষ্ণব পদ দিয়ে বিষ্ণুপুরের পর্ব শেষ করব। ঘুরতে ঘুরতে এই পদটি রাসমঞ্চের পাশে রাজার গোশালার পাঁচিলের গায়ে চোখে পড়লো। এই পদ থেকে আমরা রাজধর্মের পাশাপাশি তাঁর বৈষ্ণব সত্ত্বায় নিজেকে সমর্পণ ও সাদামাটা জীবন সহজেই লক্ষ্য করতে পারব।

প্রভু মোর শ্রীনিবাস     পুরাইলা মনে আশ
তুয়া পদে কি বলিব আর।।
আছিলুঁ বিষয়-কীট      বড়ই লাগিত মীঠ
ঘুচাইলা রাজ অহংকার।।
করিথু গরল পান         রহিল ডাহিন বাম
দেখাইলা অমিয়ার ধার।।
পিব পিব করে মন       সব লাগে উচাটন
গোরা পদে বান্ধি দিলা চিত।।
শ্রীরাধা রমন সহ        দেখাইলা কুঞ্জ গেহ
জানাইলা দুহুঁ-প্রেম-রীত।।
কালিন্দীর কূলে যাই       সখীগণে ধাওয়া ধাই
রাই কানু বিহরই সুখে।।
এ বীর হাম্বীর হিয়া         ব্রজ ভূমি সদা ধেয়া
যাহাঁ অলি উড়ে লাখে লাখে।।

মেঘাশ্রী ব্যানার্জী

ঠিকানা

তোর ঠিকানা এখন মনে নেই
অণু পল সঙ্গে ছিলাম তোর,
বেলাশেষে ছুটির টিকিয় হাতে
অস্ত পানে ঝুঁকে ছিলিস তুই।।

ফিরে দেখার সময় কোথায় তোর?
অপেক্ষাটা আমার ভাগেই জমে
তুই তখন গোলক পারের দেশে
জাদু ছোঁওয়ায় জাগাস নতুন ভোর!

ওই পারেতে আছে আমার ঘর
যেথায় তোর নিত্য যাতায়াত;
নাড়ি ছেঁড়ার যন্ত্রণা তোর নেই
দুই আকাশেই বিলাস রবিকর।

ভারসাম্য

হাতে একটা লাঠি নিয়ে দড়ির উপর ছোট্ট ছোট্ট পা রেখে ব্যালান্স করে এগিয়ে চলে যে মেয়েটা তার অভ্যাস হয়ে গেছে ভারসাম্য।
সে জানে পদচ্যুতির খেসারতের চেয়ে অনেক দামি মোটা চালের গরম ভাত।

বম্ব স্কোয়াডের যে কর্মচারী সঠিক তারটা কেটে আজ নিশ্চিন্ত চওড়া হাসিতে ঢাকা দেয় আশঙ্কা  --
সে জানে আগামী কালের বিস্ফোরকে হয়তো তার মৃত্যুবাণ লুকিয়ে।

কে.সি. নাগের তেল মাখানো বাঁশের খুঁটিতে নিয়ত ওঠানামা আমার। পাটিগণিতের সূত্রে সন্তোষজনক উত্তর মিললে লাঠির শীর্ষে বাঁদরের পৌঁছনো শক্ত নয়।
আমি জানি আসলে মঞ্জিল অধরা!

আলো-আঁধার

ছায়াপাতে আলোর রূপে লাগে চাঁদের কলঙ্ক।
কেউ কি ভাবে ছায়ার উৎস আসলে আলোই?
পতঙ্গরা যুগে যুগে পুড়েছে আগুনের মুগ্ধতায়
তবু গনগনে সে আলোক শিখার ঔদ্ধত্যের জয় জয়কার।
প্রদীপের নিচের অন্ধকার আর আগুন মরা ছাই দুইই কলুষিত ভস্ম।
অন্ধকারের এই কলুষটুকুই আমার থাক


চুমকি ভট্টাচার্য

#কেক

তোজোর জন্মদিনে আজ সারা বাড়ি সেজে উঠেছে ফুল, রঙিন কাগজ আর বেলুন দিয়ে। সন্ধ্যেবেলা অতিথিরা এক এক করে আসতে শুরু করলেন। এত্ত বড় কেক কাটে তোজো।বন্ধুরা সেই কেক একটু খায়,আর বেশিরভাগটাই একে অপরের মুখে মাখিয়ে দেয়। খাবার ও কত রকমের- যার বেশিরভাগ ফেলা গেল। কমলামাসি সেইসব ফেলে  দেওয়া খাবার ইয়া বড় বিনব্যাগে পুড়ে ফেলে দিয়ে আসল রাস্তার ডাস্টবিনে।এখন অনেক রাত, তাও তোজো জেগে- জন্মদিনে পাওয়া উপহারগুলো একে একে দেখে সে। হঠাৎই কতগুলো কুকুরের ভয়ানক চিৎকার ও একটা আর্তনাদ শুনতে পেয়েই জানালার ধারে গিয়ে দেখে , নিচে রাস্তার ডাস্টবিনের পাশে তারই বয়সী একটা ছেলে কেকের টুকরো হাতে ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছে। তাকে ঘিরে রয়েছে হিংস্র কুকুরের দল।এরইমধ্যে পাপা গিয়ে ছেলেটাকে উপরে আনেন।রোগা ছেলেটাকে দেখে তোজোর বড় মায়া হয়।তোজো মনেমনে ঠিক করে, এরপরের জন্মদিনে এই ছেলেটার মতই সব বাচ্চাদের নিমন্ত্রণ করবে শুধু।

পিয়ালী বসু



আশ্রয়

১)
বাড়ি ফিরেই বোমাটা ফাটালো অত্রি , … তখন সন্ধে সাত’টা , বাইরের ঘরের টিভিতে গাঁকগাঁক করে চড়া দাগের সিরিয়ালটা চলছে , একঘেয়ে সন্ধেটাকে আরও এক পোঁচ একঘেয়ে করে ।

১ নং রাজবল্লভ স্ট্রিটের এই ঠিকানাটায় , টিপিক্যাল উত্তর কলকাতা হবার জন্য যা যা দরকার তার প্রায় সবটাই আছে । সদর দরজা পেরিয়ে ভিতরে আসা উঠোনের মাঝখানে কলতলা , তাকে ঘিরে দোতলায় যাবার শ্যাওলা পড়া চলতা ওঠা সিঁড়ি , আর তারও উপরে আগাছায় মোড়া ছাদ ।
একতলার ডানদিকের ঘরটার নিয়মমাফিক ভাড়াটে অত্রি , পুরো নাম অত্রি সেনগুপ্ত … লাইফ ইন্সিওরেন্সের দালাল । কমন দেওয়ালের ঠিক পাশের ঘরটায় একঘর ভাড়াটে ঘেঁষাঘেঁষি করে। কবে থেকে রয়েছে তারা কেউ জানেনা। বোধহয় দেশভাগের সময় থেকে ।

আজ সকালেই খবরটা পেয়েছে অত্রি , শোনার পর থেকে দুপুরের টিফিন গলা দিয়ে প্রায় নামেনি তার , তক্কেতক্কে ছিল , কখন বাড়ি গিয়ে খবরটা আহেরি কে দেবে । আহেরি … অত্রির তিন মাসের বিবাহিতা বউ । হেব্বি দেখতে ! ভরন্ত ফিগার … রাস্তায় বেরোলেই পাড়ার রকের গুলতানি করা দলটাও নড়েচড়ে বসে ।

(২)
—-
সকাল থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি । আকাশ অংশত মেঘলা … ছাদের কাপড়গুলি তুলে নিচে আসছিলো আহেরি । তখন বেলা প্রায় দুটো , শাশুড়িমা নিজের ঘরে আয়েশ করে দিবানিদ্রা দিচ্ছেন , হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো ।
এক – দুই – তিন … চতুর্থবার বাজার আগেই হুড়মুড় করে দৌড়ে যায় আহেরি ।

মিনিট পাঁচেক পর ফোন রেখে নিজের ঘরে যায় সে । কপালে আড়াআড়ি তিনটে ভাঁজ এতটাই স্পষ্ট যে , পাশের রাঙা কাকিমাদের বাড়ি থেকেও স্পষ্ট দেখা যাবে ।

বাবাদের জেনারেশানে একমাত্র সেজোকাকুই বেঁচে আছেন এখনো। বাকিরা সবাই মরে হেজে গেছে কবেই। সেজোকাকু অল্পবয়েসে সাঁতার কাটতেন , বাবার মুখেই শোনা আহেরির । এক ডুবে হেদুয়া এপার ওপার করতেন । তারা তখন বউবাজারের বাড়িতে , দুই শরিক ঘর , একসাথে ।

ভাবনার অতলে ডুব দেয় আহেরি । ‘কি করা উচিৎ এখন তার ? অত্রি কে বলবে কি ? ‘
.

(৩)
——
‘শালা ! সকাল থেকেই মেজাজটা খিচড়ে আছে । গত তিনরাত ধরে ঘষটানোর পরও একটা সুর বেরোয় নি । কোন মুখে যে পলাশ দা’র কাছে যাবে ? … ‘ এবারের পার্টির পেমেন্টটা বেশ হাই ছিল , অনেক বলেকয়ে রাজি করিয়েছিলো পলাশ দা কে অর্পণ , কিন্তু …

ধুস শালা ! নিজের উপরই বিরক্তি আসছে । এক ঝটকায় উঠে বারান্দায় আসে সে । সিগারেটে দু চারটে টান দিতে দিতে দৃষ্টি মেলে দেয় সামনে … ‘আহ ! যদি এমনই ভেসে বেড়ানো যেতো ! এমনই ইচ্ছেঘুড়ি হয়ে । ‘
.
এসআরএফটিআইতে সাউন্ড এঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করে কলকাতার মাটিতে পা রাখা তার বছর দুয়েক আগে । তারপর থেকে জুতোর শুকতলা খসিয়েও বলার মতো একটা কাজ জোটাতে পারে নি সে । এই অবস্থায় কি করেই বা ওকে আনা যায় বাড়িতে ? …
.
ডিপ্রেশনের আলগা ছায়াটা গেঁথে বসার আগেই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে অর্পণ । স্টুডিওতে ঢুকে পড়ে । একবার আবার শুরু করা যাক । ভিকি বলতো , সকালে একটা নরম নরম ব্যাপার থাকে গলায় , যেটা বেলা বাড়ার সাথে সাথে থিতিয়ে পড়ে শেষ বিকেলে জাস্ট নুনের মতো ঝুরঝুরে হয়ে যায় । ভিকি সিং এসআরএফটিআইতে তাদের তিন বছরের সিনিয়ার ছিল । তুখোড় ছেলে ! তাইতো আজ কেমন গুছিয়ে বসেছে … একটা দীর্ঘশ্বাস আপনা আপনিই বেরিয়ে আসে অর্পণের বুক চিরে ।


ক্রমশঃ 

সঞ্জয় ঋষি

রবিবারের কবিতা


ভালো থাকার হলুদ পোষ্ট কার্ড নেই/
ঠিকানাও নেই...
#
বিষাদ ইনবক্স...



মা


বাবার মৃত্যুর পর মাকে একা থাকতে দেখি। দেখি চুপচাপ হয়ে গেছে ব্যর্থ প্রেমিকার মতো। দেখি সব ভুলে যায় ইদানীং। বাবার ছবি মায়ের ঘরে টানানো। ফুল দিয়ে রাখেন চরনের কাছে,সাথে ধূপকাঠি...নকুলদানা।
#
মায়েরা মূলত সেবা করতে ভালোবাসেন।
#
মায়েদের সেবায় ছবিও
জীবন্ত হয়ে ওঠে...


ধর্ম


পাখি উড়তে থাকলে সুন্দর লাগে
আর উড়তে উড়তে অদৃশ্য হয়ে গেলে
তাকেই কেউ কেউ শূন্যতা বলে।
#
আসলে এ তো শূন্যতা নয়
আবার হারিয়ে যাওয়াও নয়
#
এ হলো পাখি ওড়ার ধর্ম।


চিত্র - জয়ন্ত চক্রবর্তী 

সবুজ বাসিন্দা (সুপম রায়)


মেকলোনি



একটি ছেলে
মেঘেদের ভেতর গলি দিয়ে
খবরের কাগজ নিয়ে ছোটে

একটি মেয়ে
বুকে তার ওড়না খেলা করে
চুলে তার রজনীগন্ধা ফোটে

একটি ছেলে
হাওয়াতে স্তব্ধ রাখে গতি
আকাশে উড়ায় প্রজাপতি

একটি মেয়ে
কপালে সূর্য-আলো জ্বালায়
দুচোখে রঙীন স্বপ্ন বানায়


রেড মুন



সূর্যাস্তের শেষ আলোটাই সঙ্গী তখন ।
পাহাড়ের বাঁ পাশের কাঁধ জড়িয়ে
আমি যখন মুসৌরি'র ঘন জঙ্গল ভেদ করে
ব্যোমকেশ চরিত্রে পৌঁছালাম,
দেখি, তোমার শরীরে কলঙ্কের
শেষ পেয়ালার চুমুক শেষ ।
তোমার লাল পোশাকি ঠোঁটে
ঠুমরির বিনয়ী মেজাজ নেই আর ...

আমার মধ্যবিত্ত আঙুলের ফাঁকে
হাই-ক্লাসিক সিগারেট,
মুখ থেকে বেরিয়ে আসে অভিজাত ধোঁয়া ---
এবং চাদর মোড়ানো কন্ঠের ভিতর-পথ বেয়ে
বিদেশী ওয়াইনের নিম্নগামী মিছিল বিস্মিত তখন ।

মোমের মৃদু আলোতে সুসজ্জিত
সুগন্ধময় ছায়ার বৃত্তে যে মানসীকে
জন্ম দিয়েছিলে প্রিয়া,
তাকে আমি আমার আকাশে
'রেড মুন' নামে চিহ্নিত করলাম ।
এখন আর খাদের ধারে দাঁড়াতে একা ভয় লাগে না ।


চিঠি


তোমার জন্য এমন একটা চিঠি লিখব
যার ইতি থাকবে না কোনও দিন ।
লেখাতে শ্যামল শস্যের দেশ উঠে আসবে ।
কৃষকের হাতের লাঙল,  গরুর গাড়ি,
মেয়েদের সুতোর কাজ, উনুনের ধোঁয়া উঠে আসবে ।
সন্ধ্যারতি, শাঁখের আওয়াজ, তেলের প্রদীপে পড়তে বসা কচিকাঁচাদের শব্দ উঠে আসবে ।
আম চুরি, যাত্রার নাটক, কাশফুল, পাখির ডাক
আর ফুটবল খেলার কথা ফিরে আসবে ।

আজকাল এমনও মনে হয় সত্যজিৎ রায়ের ক্যামেরাটা
তোমার দিকেই ঘোরানো আছে ---
আর আমি পর্দার পিছন থেকে এখন
                     সাদা-কালো ছবিগুলো দেখছি ।

ভাবছি, সংক্ষেপে কি লিখব!