সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

নন্দিনী পাল

                                                 



জীবনমুখী গান



সতর্কতার পর ঝড় যদি আসে
একই ছাদের তলায় দাঁড়াব বর্ষাতে । 


জানলা খোলা রেখে দেখব দূরের নদী
উনুনের আঁচে চালে ডালে রাঁধব খিচুড়ি।


উড়বে পাতা, দমকা হাওয়া, বৃষ্টি ফোঁটা এসে
মেঘলা দিনের মনকেমনের নৌকা যাবে ভেসে।


প্রতিশ্রুতির বাঁধ ভেঙে দাঁড়িয়ে গেছে জল
কথার পরে কথা বলে করেছি কত ছল।


সেতুর কাঠে লড়ছে দেখ জীবনমুখী গান
রাত নামলে একসাথে বিষাদ করি পান।


পাতার পর পাতা লিখি, ভোর যদি না হয়
স্বপ্ন ঘুমে কাতর তুমি, বৃষ্টি ছুঁয়ে রয়।

 
*******†***************

মেঘলা দিনে


আমার মেঘলা দিনের মনখারাপগুলো
যখন জানলার শার্সিতে ছবি আঁকে
তখন আমার শরীর বেয়ে নামে হেমন্তের কুয়াশা
আমি সুরের মুর্ছনায় ভিজতে ভিজতে
তোমার ফেলে যাওয়া উষ্ণতার আলিঙ্গনে
নিজেকে ঢেকে ফেলি আপাদমস্তক
চোখের কোণায় জমতে থাকা বাষ্প
লীনতাপে বিন্দু বিন্দু ঝরে পড়ে পেলব মাটিতে।

তুমি তখন বালুচরে কালো মেঘের ছাউনিতে
খেলে চল সাদা কালো ঘুঁটির সতরঞ্জ
আমি জিততে চাইনি কোনদিনই
হারাবে বলে তুমি মিথ্যে বাজি রেখেছ।

********************†*

ঝড় আসার আগে ও পড়ে



ঝড় আসার আগে
নিঝুম বাতাস নিয়ে আসে সংকেত
ধূসর মেঘ নিয়ে আসে বিষাদ
আকাশ বুক চেপে গুমরে উঠলে
মাটি আঁচল পাতে সমস্ত দুঃখ শুষে নেবে বলে
গাছপালা পাখিরা চুপচাপ বসে দেখে
এই নির্ঝর ঝরে পড়া।

এখন রোদ্দুরটা একটু অন্যরকম
ঝকঝকে পিতলের থালার মত
চকচকে কিন্তু স্নিগ্ধ পবিত্র একটা রোদ
কে যেন ঘষে মেজে করেছে প্রাঞ্জল
সমস্ত জমা ক্লেদ গেছে ধুয়ে
কালকে যে পাতারা ছিল ক্লান্ত
নিঃশেষে জলপানের পর
কিছুটা তাজা হাওয়াতে প্রান জুড়িয়ে নিচ্ছে
সব ঝড়ের শেষে এরকম একটা রোদ ওঠে
নিষ্পাপ একটা রোদ
শিশুর চোখের হাসির মত।

**********************


চৌকাঠ


অভিমান বিন্দু বিন্দু জমে থাকে
কাঁচের জানায়
আজ শহর জুড়ে কান্না ঝরছে
রঙীন ছাতার বাহারী আলো
আড়াল করে
একবার চৌকাঠ পেরিয়ে এসো
প্রেম নাই থাক
পোড়া কাঠের আগুন শরীর ছু্ঁলে
আত্মারা এসে বসে পাশাপাশি। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন