রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

জয়ীতা ব্যানার্জী

                                                             


আসন্ন বৃষ্টির কথা ভেবে




কলতলা ঘন হয়ে এলো
পশ্চিম আকাশে মেঘ। পাকা খেজুরের মতো রঙ
তার ছেঁড়া আঁচলের

ও বাড়িতে আজ বুঝি রান্নায় দেরি
স্নান, খাওয়া সেরে অন্যদিন নীল শাড়ি ছাদটুকু আলো করে রাখে
আজ নেই। বরং অশ্বত্থের লাল পাতা এককোণে ছায়া সাজিয়েছে

এসব দেখার চোখ কবেই তো হারিয়ে ফেলেছি মনে হয়
আর বেলা পড়ে আসে 
আসন্ন বৃষ্টির কথা ভেবে
তড়িঘড়ি জোড়া হাঁস নেমে যায় ডোবার গভীরে


অপরাহ্ণ ফুরিয়েছে । রেল-গেটে গাড়ি আর মানুষের ঢল

পোষা হাঁসেদের ঘরে ফেরা ডাক ভেসে আসে
হেজ-বাগানের থেকে বেনামি ফুলের ঘ্রাণ
আপাদমস্তক ভেজা কলমের আমগাছখানি
তার পোয়াতি-দশার নিচে ঝরে পড়ে আছে ফল
কী এক নীরব শোক ছায়া করে রেখেছে এখানে

ও বাড়ির ছেলেটি ফিরেছে
 সাইকেলে মোরামের কাদা লেগে
কুয়োর হু হু জল তুলে ঢালছে সে উঠোনে, চাকায়
বাউন্ডুলে মেনিটির খোঁজে এতক্ষণে ছাদে এসে ঝুঁকেছে আঁচল

শহরে লোডশেডিং। অথচ এ বেয়াদপ জানালা আমাকে
এইসব দৃশ্য জুড়ে কবিতা লিখতে বলেছে


ভিতরে শোকের ছায়া। দরজায় গোলাপি বালিকা
তাঁকে বসবার পিঁড়ি, আসন দিয়েছে। ততক্ষণে
বুঝি সে-ও মুঠি খুলে দেখিয়েছে মারবেলগুলি।
ঘর কেটে রেখে ওই মন্দির চাতালে অবশেষে
সে এসেছে খোঁজ নিতে। এ বাড়ির কেউ কবে যেন
ছুটি পড়বার কথা বলেছিল। বলেছিল এ-ও
কতদিন খেলেনি সে মাঝ দুপুরের ঝাঁ ঝাঁ রোদে
সে এসেছে এতখানি রোদ নিয়ে মাথার উপর 
কথা দেওয়া আছে আর ফেরানো যায় না কোনওভাবে
বাদবাকি ছাইটুকু জড়ো করে তাঁকে পাঠালাম

২টি মন্তব্য: