রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

তৃষ্ণা বসাক

                                            


তৃষ্ণা বসাকের তিনটি কবিতা
 
ভেরোনিকা
ভেরোনিকা, তুমি সবার সামনে দাঁড়িয়ে
স্বীকার করলে যে তোমার পিতৃ পরিচয় তুমি জানো না,
তোমার সামনে দুটো পথ ছিল-
এক তো গৃহবধূর পরাধীন কিন্তু নিশ্চিন্ত জীবন
অন্যদিকে নগর বেশ্যার অনিশ্চিত, কিন্তু স্বাধীন জীবন,
তুমি স্বীকার করলে তুমি দ্বিতীয় পথ নিয়েছ,
তুমি স্বীকার করলে বহুবল্লভা হয়েও
তুমি একজনকেই ভালো বেসেছ,
তুমি স্বীকার করলে
তোমার হাত একজনের ঠোঁট ছুতে চায়,
তোমার শরীর একটি শরীরের কল্পনাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে,
তুমি তার ঘ্রাণ পাও নির্জন মুহূর্তে-
এসবই কি পাপ নয়, মহামান্য সেনেট?
 
এসব যদি পাপ হয়,
তবে ভেনিস সেই পাপ ভাগ করে নিল...
 
পেঁপেফুল, তোমাকে বলা যায়
 
আমি আমার শ্রবণের ওপর ভর দিয়ে
এই জানলায় বসে আছি,
আমি বিশ্বাস রেখেছি
সমস্ত গাঙশালিখ, পেঁপেফুল আর রোদের লাবণ্যে,
বিশ্বাস রেখেছি
শাড়ির সোনালি পাড়ে আর জমির হাজার বুটিতে,
আমি যাবতীয় লবণ ধরে রাখি আমার ওয়ার্ড ফাইলে,
আর এই অর্থী সকালটিকে সসাগর উজাড় করে দিই।
 
যৌবন! যৌবন!
 
যৌবন ছাড়া এই পথে ভ্রমণ অসম্ভব,
এত সিঁড়ি ওঠা,
এত সিঁড়ি নামা,
এত ঝুলন্ত সেতু
আর এত নড়বড়ে পাথর,
আর মুখের মধ্যে সূর্যকে ধরে ছবি তোলা-
এ সব, এই সব যৌবনের কাজ ভেবে
লেখার টেবিলে বসতেই,
টেবিলটা ঝুরঝুর করে ভেঙে গেল,
বৃদ্ধ লেখকের বয়সের ভার কাঠও সইতে পারল না!

৩টি মন্তব্য: